Posts

ভোরের শিউলি

Image
শিউলির গন্ধমাখা ভোর আজ ও এক নষ্টালজিয়া .. যাতে মিশে আছে ছোটবেলার সবটুকু নির্যাস  বাড়ির ছাদে ভোরের আলো ফোটার আগে জড়ো হয়ে যেতাম আমরা ক জন ..ছোট্টবেলার পুতুল খেলার সঙ্গিনীরা তারপর গাছ নাড়িয়ে সমস্ত ফুল মাটিতে ফেলে ফুলের চাদরে ছেয়ে যেত চারপাশ সে এক অদ্ভুত এক নৈসর্গিক আনন্দ. মহালয়ার ভোরে ভেসে আসতো '' শান্তি দিলে ভরি দুঃখ রজনী গেলো তিমির হরি ...'' শুরু হয়ে যেত শিউলির মালা গাঁথা.. কার ঝুড়ি তে কত ফুল কার মালা কতটা লম্বা তা নিয়ে চলতো প্রতিযোগিতা.. অদ্ভুত ছায়ার মতো দৃশ্যপট চলে যায় চোখের সামনে দিয়ে দেখতে পাই বাড়ির ছাদময়  ছড়িযে রয়েছে আমাদের ছোটবেলা .. অমূল্য সেসব স্মৃতি আজকের চলার সম্পদ ..অলস নিস্তরঙ্গ দুপুরের পরম প্রাপ্তি..আজকের শৈশব এর কাছে শিউলী গন্ধ-বর্ণ সবই অধরা কারণ শিশু কে  শৈশবের সাথে পরিচিত করিয়ে দেবার মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে ইট -কাঠের জঙ্গলে তবু ও মনে আশা ফিরে আসুক সবখানের নির্মলতা..

প্যাকেটজাত অপুষ্টি

Image
  ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ৭ই সেপ্টেম্বর চলছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শহর বা শহরতলি তে পুষ্টি উপাদানের অভাব না থাকলেও অপুষ্টির নিরিখে এগিয়ে  রয়েছে এখানকার মানুষই, বিশেষত শিশুরা,এবার আমার আপনার বাড়ির কথায় আসা যাক;এখনকার বাচ্চাদের মধ্যে খিদে পেলে খাবো এই ভাবনার থেকে বেশি  কাজ করে খাবার ভালো দেখতে হলে তবে ই খাবো এই মানসিকতা, ফলস্বরূপ রংবেরঙের  প্যাকেটএ প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পানীয়  সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে বাচ্চা থেকে বুড়ো সবার হাতে যার মধ্যে অতিরিক্ত  পরিমানে থাকছে সুগার,সল্ট এবং ট্রান্সফ্যাট (উচ্চ তাপে  এবং  চাপে ফ্যাট র সাথে হাইড্রোজেন যুক্ত হয়ে  উৎপন্ন যা সহজেই বাড়িয়ে  তোলে  লো ডেন্সিটি কলেস্টেরল বা  ক্ষতিকর কলেস্টেরল) এছাড়াও খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ দিন ভালো রাখার জন্য দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন রাসায়নিক উক্ত প্রতিটি জিনিসই মানুষের স্বাস্থ্যে যে টক্সিন উৎপন্ন করছে তার দীর্ঘমেয়াদি কুফল আজ ঘরে ঘরে. ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কলেস্টেরল,হার্ট এর রোগ  এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত.এখন প্রশ্ন উঠতে পারে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এমন এক শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছে...

মুখ - মুখোশের আড়ালে

Image
চলতে চলতে আজ ভুলেই যাই যে কোনটা সত্যি মুখটা নাকি মুখোশ টা,মুখই যদি সত্যি হবে তাহলে সত্যে তার ভয় কিসের? কিন্তু মুখের সামনে সত্যি টা কেউ মানতেই পারছে না অথচ মিথ্যে  কিন্তু  দিব্বি বিশ্বাস যোগ্যতায় উত্তীর্ণ. আসলে এখন মোড়ক টাই তো জীবনের সব...ভাঙ্গাচোরা খারাপ -- অপার কৃত্রিমতায় সে আকর্ষণীয় আর  পরিপূর্ণ. আর মোড়কহীন মলিন তাই সত্য হলেও ব্যর্থ,কারণ সাজানো গোছানো সুন্দরের মোহো অনিবার্য. সেই মোহোই তো বলছে  এই বেশ ভালো আছি ভালো শুনছি ভালো খাচ্ছি ভালো মাখছি আর কি চাই..এতই যদি ভালো  তাহলে এত ঘুন ধরছে কি করে ? শরীরে ক্যান্সার সে তো নয় বুঝলাম কিন্তু মনের ক্যান্সার ?? সেও কি আর কোনো দিনও সারবে? বিশ্বাস ব্যবস্থা টাই যে অন্দরে অন্দরে উল্টে গেছে, অন্তরেও তাই সেই বিষপোকার আনাগোনার পথ মসৃন হয়েছে কালে দিনে..সুতরাং এখনকার মতো মুখোশ ই সত্যি... আর তারপরেও মুখোশ ও একদিন সরে যাবে সেটাই সত্যি....

ঝাউবন আজ ও স্মৃতিতে

Image
  চিরন্তন আড্ডাবাজ বাঙালির গল্প আড্ডায় ভ্রমণ কথা থাকবে না তাও কি হয়... তাই গল্প আড্ডা র প্রথম পর্ব ই আরম্ভ করছি  বেড়ানোর গল্প দিয়ে ..আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগের কথা , চোখ খুলে প্রথম যেদিন সমুদ্র দেখলাম হা ঠিক ই প্রথম বার সারারাত ট্রেন এ করে পৌঁছে গেছি পুরি..আজকের পুরি র সাথে সেদিনের পুরি কিন্তু  সম্পূর্ণ ভিন্ন ...     সে ছিল এক অন্য চরাচর..বিস্তীর্ণ বালিরাশির মধ্যে সুবিন্যাস্ত ঝাউবন..দোকান পাঠ বাজার হাট অথবা হোটেল সমুদ্রের ধরে ছিল না কিছুই...ছিল শুধু বিশাল নীল সমুদ্র আর তার গর্জন ..এমন গর্জন ছোট্ট মন খুব  ভয়ে পেয়ে গেলো..সে আর কিছুতেই সমুদ্রের কাছে যাবে না ...ভয়ে পেয়ে সোজা ঢুকে গেলো ঝাউবনে...সেই ঘন সবুজ নির্জন নিরালা  হারিয়ে গাছে জনস্রোতে ...আজ এতদিন পর সত্যি খুব বেশি করে ফিরে পেতে   ইচ্ছে করে সেই সবুজ বনানী ...ইচ্ছা করলেও ফেরার পথ সত্যি থাকে না ...তবে এখন এই ঝাউবনের খুব সামান্য অংশ রয়ে গাছে ওড়িষ্যার অন্য একটি জায়গা চাঁদিপুরে ...তাই এখনো যারা একটু একান্ত সময়ে কাটাতে চাইবেন প্রকৃতির সানিধ্যে তারা অতি অবশ্যই সপ্তাহ আন্তে ছোট্...